শ্রাবনের ঘুম ভাঙে ফোনের রিংটোনে। বিরক্তি সহকারে কথা শেষ করে, চোখ ডলতে ডলতে বাসা থেকে বের হয়। এগিয়ে চলে ইট সিমেন্টের রাস্তা ধরে। উদ্দেশ্য রজত এবং আকাশকে ডেকে তোলা। এই ভোর বেলায় তাদেরকে ডেকে তোলার দ্বায়িত্ব, গতকাল তারাই শ্রাবনকে দিয়েছে।
শ্রাবন রজতের জানালার কাছে গিয়ে ডাকে।
-রজত! রজত! ওবে রজত!
কড়া গলায় জবাব আসে, কে রে ভোর বেলায় রজতকে ডাকে?
শ্রাবণ বুঝতে পারে এইটা রজতের বাবার গলা।
সে সাথে সাথে ঝেড়ে দৌড় দেয়। এক দৌড়ে আকাশের বাড়ির নিচে গিয়ে থামে। রজতের বাড়ির পাঁচটা বাড়ি পরেই আকাশের বাড়ি। দোতালা বাড়ি।
শ্রাবন দেখল আকাশ নিচেই দাঁড়িয়ে আছে।
আকাশ জিজ্ঞেস করে, কিরে! দৌড়াচ্ছিস কেন?
শ্রাবণ বলে রজতকে ডাকতে গেছিলাম ভুল করে ওর বাবার ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছি।
আকাশ হেসে ফেলে বলে তুইও পারিস বেটা।
-রজতকে ফোন দিলেই তো পারতি।
-ফোনে টাকা নাই।
-ও আচ্ছা।
-রজত! রজত! ওবে রজত!
কড়া গলায় জবাব আসে, কে রে ভোর বেলায় রজতকে ডাকে?
শ্রাবণ বুঝতে পারে এইটা রজতের বাবার গলা।
সে সাথে সাথে ঝেড়ে দৌড় দেয়। এক দৌড়ে আকাশের বাড়ির নিচে গিয়ে থামে। রজতের বাড়ির পাঁচটা বাড়ি পরেই আকাশের বাড়ি। দোতালা বাড়ি।
শ্রাবন দেখল আকাশ নিচেই দাঁড়িয়ে আছে।
আকাশ জিজ্ঞেস করে, কিরে! দৌড়াচ্ছিস কেন?
শ্রাবণ বলে রজতকে ডাকতে গেছিলাম ভুল করে ওর বাবার ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছি।
আকাশ হেসে ফেলে বলে তুইও পারিস বেটা।
-রজতকে ফোন দিলেই তো পারতি।
-ফোনে টাকা নাই।
-ও আচ্ছা।
আকাশ রজতকে কল দেয়।
কই তুই? আমার বাসার নিচে আয়, দাঁড়িয়ে আছি।
রজত দাঁত ব্রাশ করতে করতে বের হয়ে আসে।
এসেই শ্রাবনকে বলে
-কিবে! তোকে বলেছিলাম আমাকে ডাকতে; আর তুই আব্বুকে জাগিয়ে বসে আছিস।
শ্রাবন বোকার মত তাকিয়ে থাকে।
আসলে সে-তো কাজটা ইচ্ছে করে করেনি।
আকাশ বলে অমিত কি ফোন দিয়েছিল?
রজত বললো কই? না তো!
শ্রাবন বললো আমাকে ফোন দিয়েছিল জিজ্ঞেস করলো আমরা কখন বাসে উঠবো?
আমি বললাম জানি না।
ওই বললো রজত ও আকাশের সাথে কথা বলে জানা আমাকে। ওরা ফোন ধরছে না, মনে হয় ঘুমিয়ে আছে।
আকাশ ফোন দেয় অমিতকে।
ফোন ধরেই অমিত বলে উঠলো, কিরে ঘুম ভাঙলো?
আকাশ বললো, হুম! এইমাত্র উঠলাম।
অমিত বললো আমি শ্রাবনকে ফোন দিয়েছিলাম। তা তোরা কখন বাসে উঠবি?
আকাশ বললো ৮:৩০ এর বাসে রওনা দিবো। কোথায় গিয়ে জানি নামতে হবে?
অমিত বললো মোকামতলাম নামবি। তারপর সেখান থেকে সিএনজি তে জুমারবাড়ি।
আকাশ অমিতের সাথে কথা শেষ করে বলে এখন বাজে ৭:২৫ তোরা জলদি রেডি হয়ে চলে আয়।
কই তুই? আমার বাসার নিচে আয়, দাঁড়িয়ে আছি।
রজত দাঁত ব্রাশ করতে করতে বের হয়ে আসে।
এসেই শ্রাবনকে বলে
-কিবে! তোকে বলেছিলাম আমাকে ডাকতে; আর তুই আব্বুকে জাগিয়ে বসে আছিস।
শ্রাবন বোকার মত তাকিয়ে থাকে।
আসলে সে-তো কাজটা ইচ্ছে করে করেনি।
আকাশ বলে অমিত কি ফোন দিয়েছিল?
রজত বললো কই? না তো!
শ্রাবন বললো আমাকে ফোন দিয়েছিল জিজ্ঞেস করলো আমরা কখন বাসে উঠবো?
আমি বললাম জানি না।
ওই বললো রজত ও আকাশের সাথে কথা বলে জানা আমাকে। ওরা ফোন ধরছে না, মনে হয় ঘুমিয়ে আছে।
আকাশ ফোন দেয় অমিতকে।
ফোন ধরেই অমিত বলে উঠলো, কিরে ঘুম ভাঙলো?
আকাশ বললো, হুম! এইমাত্র উঠলাম।
অমিত বললো আমি শ্রাবনকে ফোন দিয়েছিলাম। তা তোরা কখন বাসে উঠবি?
আকাশ বললো ৮:৩০ এর বাসে রওনা দিবো। কোথায় গিয়ে জানি নামতে হবে?
অমিত বললো মোকামতলাম নামবি। তারপর সেখান থেকে সিএনজি তে জুমারবাড়ি।
আকাশ অমিতের সাথে কথা শেষ করে বলে এখন বাজে ৭:২৫ তোরা জলদি রেডি হয়ে চলে আয়।
অমিতের সাথে শ্রাবন, রজত ও আকাশের সম্পর্ক তারা শৈশবের বন্ধু। অমিত অবশ্য এখন এখানে থাকে না। সে তার পরিবারের সাথে জুমারবাড়ি থাকে। অমিতের বাবা একটা সরকারি চাকরি করতেন তিনি বদলি হওয়ায় অমিতের পরিবারকে জুমারবাড়ি যাওয়া লাগে। অমিতের বাবা গত হয়েছেন দু বছর হল। অমিতরা এখন ওখানেই থাকে। অমিতের নানা বাড়িও সেখানে। অমিতরা দুই ভাই দুই বোন। অমিত সবার ছোট।
শ্রাবন, রজত ও আকাশের রেডি হয়ে বের হতে হতে বেজে গেলো ৮:১০।
৮:৩০ এর বাস। বাস মিস করলে আবার এক ঘন্টা অপেক্ষা করা লাগবে। আকাশের বাবা তাদেরকে বাসে উঠানোর জন্য তাদের সাথে এসেছেন। তারা টিকিট কেটে বাসে বসার প্রায় সাথে সাথেই বাস ছেড়ে দিল।
তিন বন্ধু এক সাথে এর আগে দূরে কোথাও যায়নি। শ্রাবনের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১৭ দিন আগে। রজত ও আকাশ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। রজত ও আকাশ পাশাপাশি সিটে বসেছে। আকাশ বসেছে জানালার পাশে।
শ্রাবন বসেছে তাদের পিছের সিটে, সেও জানালার পাশে। পিচ ঢালা রাস্তায় বাস চলছে। চলছে তো চলছেই।
৮:৩০ এর বাস। বাস মিস করলে আবার এক ঘন্টা অপেক্ষা করা লাগবে। আকাশের বাবা তাদেরকে বাসে উঠানোর জন্য তাদের সাথে এসেছেন। তারা টিকিট কেটে বাসে বসার প্রায় সাথে সাথেই বাস ছেড়ে দিল।
তিন বন্ধু এক সাথে এর আগে দূরে কোথাও যায়নি। শ্রাবনের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১৭ দিন আগে। রজত ও আকাশ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। রজত ও আকাশ পাশাপাশি সিটে বসেছে। আকাশ বসেছে জানালার পাশে।
শ্রাবন বসেছে তাদের পিছের সিটে, সেও জানালার পাশে। পিচ ঢালা রাস্তায় বাস চলছে। চলছে তো চলছেই।
প্রায় দুই ঘন্টা পর বাস থামে, হেল্পার বলে উঠলো এই মোকাম তলার যাত্রীরা নামেন নামেন। তিন জন নেমে গেল। রজত একটু বেশিই দ্রুত নামলো। নেমেই সে এদিক ওদিক খুঁজে একটা ভাঙা দোকানের পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। প্রসাব করতে। সে অবশ্য রাস্তাতেই তিন চার বার হেল্পার কে বলেছিল বাস থামাতে, কিন্তু বাস টা থামানো সম্ভব হয়নি। তার এই তাড়াহুড়োর কান্ড দেখে তো শ্রাবণ ও আকাশ হাসতে হাসতে শেষ। শ্রাবণ হাসতে হাসতে বলে এবার বুঝলাম রজত বার বার কেন জিজ্ঞেস করছিল বাস কখন থামবে। তারপর আকাশ ও শ্রাবণ আরও জোরে হেসে ওঠে।
শ্রাবনের ফোন টা বেজে উঠল।
ফোনে অমিত।
জিজ্ঞেস করল, কিরে কত দূর তোরা?
শ্রাবণ বললো এই মাত্র নামলাম।
অমিত বললো এবার একটা সিএনজি ভাড়া কর ১৫০ টাকা নিবে। বলবি জুমারবাড়ি বাজারের উপর নামবো। তাহলেই হবে।
শ্রাবন বললো আচ্ছা ঠিক আছে।
অমিত ফোনটা রেখে দিল।
২০ মিনিট হয়ে গেলো অথচ কোন সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না।
সিএনজি কেন, কোন গাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না।
যে দুই একটা গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে তারা আবার
জুমারবাড়ি জায়গাটার নাম শুনলে কেন জানি যেতে চাচ্ছে না।
রজত বললো আজ মনে হয় আর গাড়ি পাওয়া যাবে না। ভাল্লাগছেনা!
আকাশ বিরক্তি সহকারে ফোন দিল অমিতকে বলল, কিরে! গাড়ি তো পাওয়া যাচ্ছেনা কী করবো?
অমিত বলে অপেক্ষা কর একটু, পাবি। জুমারবাড়ির গাড়ি পেতে একটু কষ্টই হয়।
সবাই বিরক্তি সহকারে অপেক্ষা করতে লাগলো।
আরও ৩৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর একটা সিএনজি পাওয়া গেল তবে ভাড়া চাইলো দ্বীগুন অর্থাৎ ৩০০ টাকা। তিনজন তাতেই রাজি।
গাড়ি তে উঠে কিছু পথ যাওয়ার পর রজত বললো, আচ্ছা! অমিত কে জানালি আমরা গাড়ি পেয়েছি?
আকাশ বললো হ্যাঁ এসএমএস করে দিয়েছি।
ফোনে অমিত।
জিজ্ঞেস করল, কিরে কত দূর তোরা?
শ্রাবণ বললো এই মাত্র নামলাম।
অমিত বললো এবার একটা সিএনজি ভাড়া কর ১৫০ টাকা নিবে। বলবি জুমারবাড়ি বাজারের উপর নামবো। তাহলেই হবে।
শ্রাবন বললো আচ্ছা ঠিক আছে।
অমিত ফোনটা রেখে দিল।
২০ মিনিট হয়ে গেলো অথচ কোন সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না।
সিএনজি কেন, কোন গাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না।
যে দুই একটা গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে তারা আবার
জুমারবাড়ি জায়গাটার নাম শুনলে কেন জানি যেতে চাচ্ছে না।
রজত বললো আজ মনে হয় আর গাড়ি পাওয়া যাবে না। ভাল্লাগছেনা!
আকাশ বিরক্তি সহকারে ফোন দিল অমিতকে বলল, কিরে! গাড়ি তো পাওয়া যাচ্ছেনা কী করবো?
অমিত বলে অপেক্ষা কর একটু, পাবি। জুমারবাড়ির গাড়ি পেতে একটু কষ্টই হয়।
সবাই বিরক্তি সহকারে অপেক্ষা করতে লাগলো।
আরও ৩৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর একটা সিএনজি পাওয়া গেল তবে ভাড়া চাইলো দ্বীগুন অর্থাৎ ৩০০ টাকা। তিনজন তাতেই রাজি।
গাড়ি তে উঠে কিছু পথ যাওয়ার পর রজত বললো, আচ্ছা! অমিত কে জানালি আমরা গাড়ি পেয়েছি?
আকাশ বললো হ্যাঁ এসএমএস করে দিয়েছি।
সিএনজি চলছে।
পিচ ঢালা আঁকাবাকা চিকন রাস্তা।
এমনই একটা রাস্তা যে, একটা সিএনজি চললে তার সাথে আরেকটা সাইকেল চলাও কষ্টকর, অসম্ভব প্রায়।
তার মধ্যেই সিএনজি ড্রাইভার প্রায় প্রতি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার স্পিডে সিএনজিটা চালাচ্ছে।
ভয়ে সবার মুখ শুকনো। আকাশ তো একবার বলেই বসলো, মামা! আস্তে ধীরে চলেন আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই। রজত এবং শ্রাবন হ্যাঁ হ্যাঁ করে উঠলো।
সিএনজি ড্রাইভার একটু হেসে বললো ভয় পাবেন না মামা।
আমি পাকা ড্রাইভার ৭ বছর ধরে সিএনজি চালাইতাসি, আইজ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নি।
কিছুক্ষণ পরে।
শ্রাবন অতি বিনয়ের সাথে সিএনজি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলো আপনার নাম কি?
আমার নাম হইল জব্বার উদ্দিন ভূঁইয়া। সবাই আদর কইরা জবু বইলা ডাকে।
আকাশ বললো আমরা আপনাকে জবু মামা বলে ডাকলে কি কোন সমস্যা আছে?
জবু বললো কোনো সমস্যা নাই। জবু মামা জিজ্ঞেস করলো তো আপনারা জুমারবাড়িতে কি জন্যে যাচ্ছেন?
রজত বললো আমাদের বন্ধুর বাড়ি, সেখানেই যাচ্ছি।
শৈশবের বন্ধু। অনেক দিন পর দেখা হবে আজ।
জবু মামা জিজ্ঞেস করল অনেক দিন পর ক্যান?
আসলে মাঝে আমাদের যোগাযোগ ছিলোনা।
আমরা সবাই তখন ছোট,
যখন ওরা এখানে চলে আসে। তারপর আর কোন যোগাযোগ ছিল না।
রজতের কথা শেষ না হতেই জবু মামা বললো, যোগাযোগ ছিলো না!
তো এতো দিন পর উনাকে খুঁজে পেলেন কীভাবে?
পিচ ঢালা আঁকাবাকা চিকন রাস্তা।
এমনই একটা রাস্তা যে, একটা সিএনজি চললে তার সাথে আরেকটা সাইকেল চলাও কষ্টকর, অসম্ভব প্রায়।
তার মধ্যেই সিএনজি ড্রাইভার প্রায় প্রতি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার স্পিডে সিএনজিটা চালাচ্ছে।
ভয়ে সবার মুখ শুকনো। আকাশ তো একবার বলেই বসলো, মামা! আস্তে ধীরে চলেন আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই। রজত এবং শ্রাবন হ্যাঁ হ্যাঁ করে উঠলো।
সিএনজি ড্রাইভার একটু হেসে বললো ভয় পাবেন না মামা।
আমি পাকা ড্রাইভার ৭ বছর ধরে সিএনজি চালাইতাসি, আইজ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নি।
কিছুক্ষণ পরে।
শ্রাবন অতি বিনয়ের সাথে সিএনজি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলো আপনার নাম কি?
আমার নাম হইল জব্বার উদ্দিন ভূঁইয়া। সবাই আদর কইরা জবু বইলা ডাকে।
আকাশ বললো আমরা আপনাকে জবু মামা বলে ডাকলে কি কোন সমস্যা আছে?
জবু বললো কোনো সমস্যা নাই। জবু মামা জিজ্ঞেস করলো তো আপনারা জুমারবাড়িতে কি জন্যে যাচ্ছেন?
রজত বললো আমাদের বন্ধুর বাড়ি, সেখানেই যাচ্ছি।
শৈশবের বন্ধু। অনেক দিন পর দেখা হবে আজ।
জবু মামা জিজ্ঞেস করল অনেক দিন পর ক্যান?
আসলে মাঝে আমাদের যোগাযোগ ছিলোনা।
আমরা সবাই তখন ছোট,
যখন ওরা এখানে চলে আসে। তারপর আর কোন যোগাযোগ ছিল না।
রজতের কথা শেষ না হতেই জবু মামা বললো, যোগাযোগ ছিলো না!
তো এতো দিন পর উনাকে খুঁজে পেলেন কীভাবে?
রজত শ্রাবনকে দেখিয়ে একটু হেসে বললো এই যে আমাদের বুদ্ধিজিবী। এই কিছুদিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে বললো অমিতের সাথে কথা বললাম রে। আমি তো খুশিতে আটখানা। জিজ্ঞেস করলাম কোথায় থেকে অমিতকে পেলি?
এবার শ্রাবন রজতকে থামিয়ে দিয়ে বললো থাম! মামাকে ঘটনাটি আমি বলি।
তারপর শ্রাবণ বলতে শুরু করলো
আসলে ১৫ দিন আগে আমি যখন ফেসবুকে আমার নিউজ ফিড টা দেখছিলাম,
তখন একটা নিউজ পোর্টালের একটা এক্সিডেন্টের নিউজের পিকচারের এক কোনায়, আমি অমিতের ছবি দেখতে পাই।
এবার শ্রাবন রজতকে থামিয়ে দিয়ে বললো থাম! মামাকে ঘটনাটি আমি বলি।
তারপর শ্রাবণ বলতে শুরু করলো
আসলে ১৫ দিন আগে আমি যখন ফেসবুকে আমার নিউজ ফিড টা দেখছিলাম,
তখন একটা নিউজ পোর্টালের একটা এক্সিডেন্টের নিউজের পিকচারের এক কোনায়, আমি অমিতের ছবি দেখতে পাই।
জবু মামা আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞেস করলো একটু খুলে বলেন তো ব্যাপারটা। আসলে ঠিক বুঝলাম না।
শ্রাবন বললো এক্সিডেন্টের পিকচার টা তে মাটিতে পরে থাকা চারটা লাশকে দেখতে আসা মানুষের ভীরের মধ্যে এক কোনায় সে দাঁড়িয়ে ছিল। চেহারা খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে তার, তাতে কি আমার শৈশবের বন্ধু। আমার তো আর তাকে চিনতে ভুল হবে না। তবু্ও মনে একটু সংশয় ছিল।
শ্রাবন বললো এক্সিডেন্টের পিকচার টা তে মাটিতে পরে থাকা চারটা লাশকে দেখতে আসা মানুষের ভীরের মধ্যে এক কোনায় সে দাঁড়িয়ে ছিল। চেহারা খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে তার, তাতে কি আমার শৈশবের বন্ধু। আমার তো আর তাকে চিনতে ভুল হবে না। তবু্ও মনে একটু সংশয় ছিল।
জবু মামা জিজ্ঞেস করলো তারপর?
নিউজ পোর্টালের নাম লিখে গুগলে সার্চ দিই। সেখান থেকে ফোন নম্বর নিয়ে কল দেই। তারপর জানতে পারি এইটা মোকামতলার একটা নিউজ পোর্টাল। ফেসবুকে সার্চ দেই অমিতের নাম লিখে এবং লোকেশন দেই মোকামতলা। অমিত হাসান নামের মোট ৮৪২ জন আসে মোকামতলার। ৩ দিন সময় নিয়ে ৭০৯ টা আইডি চেক করি। ৪ দিনের দিন ৮১৩ নম্বর আইডি টা পাই। ক্লাস থ্রীতে পড়ার সময়কার, তার বাবার সাথে তোলা একটা ছবি ছিল তার প্রোফাইল পিকচার। সে ছবি টা দেখেই কনফার্ম হই। এটাই আমাদের অমিত। তারপর এড হলাম, কথা হল, ঠিকানা নিলাম, নম্বর নিলাম। এই তো!
মজার না ঘটনা টা মামা?
জবু বললো হুম আসলেই মজার। ফোন ফেসবুক এসে যেমন জীবনটার বারোটা বেজেছে, তেমন জীবনটা সহজও হয়ে গেছে। সবাই একটু হেসে উঠলো।
আকাশ বলে মামা আপনার হাতের আঙুলে ওটা কিসের সেলাই? এক্সিডেন্টের?
জবু মামা বললো আমি কোন দিন এক্সিডেন্ট করিনি। তবে...
সবাই আগ্রহ সহকারে জানতে চায় তবে কি?
জবু মামা কিছুক্ষন থেমে ইতস্তত করে বলে তবে..
একবার একটা ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে গেছিলাম।
রজত চোখ বড় বড় করে বললো কিছু হয় নি?
জবু মামা বললো না, আল্লাহ ই বাঁচায় দিসিল।
আমার তেমন কিসু হয়নি বুকের দুইটা হাড় আর বাম পা টা ভেঙে গেসিল।
তবে পাঁচজন যাত্রী ছিল গাড়িতে ওর মধ্যে চার মারা গেসে।
মুখটা ছোট করে কষ্ট নিয়ে বললো
এই আর কি!
নিউজ পোর্টালের নাম লিখে গুগলে সার্চ দিই। সেখান থেকে ফোন নম্বর নিয়ে কল দেই। তারপর জানতে পারি এইটা মোকামতলার একটা নিউজ পোর্টাল। ফেসবুকে সার্চ দেই অমিতের নাম লিখে এবং লোকেশন দেই মোকামতলা। অমিত হাসান নামের মোট ৮৪২ জন আসে মোকামতলার। ৩ দিন সময় নিয়ে ৭০৯ টা আইডি চেক করি। ৪ দিনের দিন ৮১৩ নম্বর আইডি টা পাই। ক্লাস থ্রীতে পড়ার সময়কার, তার বাবার সাথে তোলা একটা ছবি ছিল তার প্রোফাইল পিকচার। সে ছবি টা দেখেই কনফার্ম হই। এটাই আমাদের অমিত। তারপর এড হলাম, কথা হল, ঠিকানা নিলাম, নম্বর নিলাম। এই তো!
মজার না ঘটনা টা মামা?
জবু বললো হুম আসলেই মজার। ফোন ফেসবুক এসে যেমন জীবনটার বারোটা বেজেছে, তেমন জীবনটা সহজও হয়ে গেছে। সবাই একটু হেসে উঠলো।
আকাশ বলে মামা আপনার হাতের আঙুলে ওটা কিসের সেলাই? এক্সিডেন্টের?
জবু মামা বললো আমি কোন দিন এক্সিডেন্ট করিনি। তবে...
সবাই আগ্রহ সহকারে জানতে চায় তবে কি?
জবু মামা কিছুক্ষন থেমে ইতস্তত করে বলে তবে..
একবার একটা ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে গেছিলাম।
রজত চোখ বড় বড় করে বললো কিছু হয় নি?
জবু মামা বললো না, আল্লাহ ই বাঁচায় দিসিল।
আমার তেমন কিসু হয়নি বুকের দুইটা হাড় আর বাম পা টা ভেঙে গেসিল।
তবে পাঁচজন যাত্রী ছিল গাড়িতে ওর মধ্যে চার মারা গেসে।
মুখটা ছোট করে কষ্ট নিয়ে বললো
এই আর কি!
আকাশ উঁকি দিয়ে দেখল জবু মামার বাম পা অর্ধেকটা কাটা। জবু মামার জন্য সবার মন আফসোসে ভরে গেল।
শ্রাবন জিজ্ঞেস করল আপনাদের এদিকে বেশি এক্সিডেন্ট হয় নাকি?
হঠাৎ রজতের কি যেন মনে হল সে বললো
আচ্ছা! মামা যারা মারা গেছে তাদের কি কোন ছবি আছে আপনার কাছে?
জবু মামা বললো হুম! আছে, কিন্তু এখন তো গাড়ি চালাচ্ছি আর তা ছাড়া আপনাদেরকে আমার ভালো লেগেছে তাই কিছু না মনে করলে আমার সাথে ফেসবুকে এড হন ম্যাসেঞ্জারে দিচ্ছি। আইডির নাম জব্বার উদ্দিন ভূঁইয়া। শ্রাবন এড হল।
রজত অনেক কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো কি করে হয়েছিল এক্সিডেন্ট টা।
জবু মামা বললো আমি নেশার ঘোরে ছিলাম হুট করেই ট্রাক টা সামনে চলে আসল। আর থামাতে পরলাম না।
শ্রাবন জিজ্ঞেস করল আপনাদের এদিকে বেশি এক্সিডেন্ট হয় নাকি?
হঠাৎ রজতের কি যেন মনে হল সে বললো
আচ্ছা! মামা যারা মারা গেছে তাদের কি কোন ছবি আছে আপনার কাছে?
জবু মামা বললো হুম! আছে, কিন্তু এখন তো গাড়ি চালাচ্ছি আর তা ছাড়া আপনাদেরকে আমার ভালো লেগেছে তাই কিছু না মনে করলে আমার সাথে ফেসবুকে এড হন ম্যাসেঞ্জারে দিচ্ছি। আইডির নাম জব্বার উদ্দিন ভূঁইয়া। শ্রাবন এড হল।
রজত অনেক কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো কি করে হয়েছিল এক্সিডেন্ট টা।
জবু মামা বললো আমি নেশার ঘোরে ছিলাম হুট করেই ট্রাক টা সামনে চলে আসল। আর থামাতে পরলাম না।
সবায় চুপ করে গেল। হয়তো বা রাগে নয়তো বা ঘৃণায়।
আর কেউ কোন কথা বললো না।
মাঝে মধ্যে মানুষ চুপ করে যায়। এখন হয়তো সেই পরিস্থিতি।
সিএনজিতে প্রায় ২৫ মিনিটের মত লাগলো জুমারবাড়ি বাজারে পৌঁছাতে।
সিএনজি থেকে নামলো সবাই।
ভাড়া দিলো সিএনজি চলে গেল।
আর কেউ কোন কথা বললো না।
মাঝে মধ্যে মানুষ চুপ করে যায়। এখন হয়তো সেই পরিস্থিতি।
সিএনজিতে প্রায় ২৫ মিনিটের মত লাগলো জুমারবাড়ি বাজারে পৌঁছাতে।
সিএনজি থেকে নামলো সবাই।
ভাড়া দিলো সিএনজি চলে গেল।
সবার দৃষ্টি এদিক-ওদিক অমিতকে খুঁজতে লাগলো।
এমন সময় শ্রাবন ফোনটা বের করে ফেসবুকের ম্যাসেজ চেক করতে করতে হঠাৎ "ইট'স ইম্পসিবল" বলে উঠলো।
আকাশ বললো কি হয়েছে এমন ফ্যাকাসে হয়ে গেলি কেন?
শ্রাবন কোন কথা বললো না।
আকাশ ফোনটা নিয়ে বললো কি হয়েছে দেখি।
সে দেখতে লাগলে রজতও এসে দেখে, তারাও ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
জব্বার উদ্দিন ভূইয়া ম্যাসেঞ্জারে এক্সিডেন্টের ছবি পাঠিয়েছে।
যে এক্সিডেন্টে সে তার নিজের পা হারিয়েছে এবং চারজনের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
এমন সময় শ্রাবন ফোনটা বের করে ফেসবুকের ম্যাসেজ চেক করতে করতে হঠাৎ "ইট'স ইম্পসিবল" বলে উঠলো।
আকাশ বললো কি হয়েছে এমন ফ্যাকাসে হয়ে গেলি কেন?
শ্রাবন কোন কথা বললো না।
আকাশ ফোনটা নিয়ে বললো কি হয়েছে দেখি।
সে দেখতে লাগলে রজতও এসে দেখে, তারাও ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
জব্বার উদ্দিন ভূইয়া ম্যাসেঞ্জারে এক্সিডেন্টের ছবি পাঠিয়েছে।
যে এক্সিডেন্টে সে তার নিজের পা হারিয়েছে এবং চারজনের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
ছবিতে এক্সিডেন্টে যে চারজন মারা গেছে তারা অমিতের পরিবার।
ছবিতে লাশ গুলো অমিতের দুই আপু, অমিতের মা এবং অমিতের।
শ্রাবণ নিউজ পোর্টালের ছবিতে যে অমিত কে দেখেছিল এই তো সেই অমিত ই।
রজত এবার গলা খাকড়ানি দিয়ে বললো কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?
আমরা তো একটু আগেও ওর সাথে ফোনে কথা বললাম।
ছবিতে লাশ গুলো অমিতের দুই আপু, অমিতের মা এবং অমিতের।
শ্রাবণ নিউজ পোর্টালের ছবিতে যে অমিত কে দেখেছিল এই তো সেই অমিত ই।
রজত এবার গলা খাকড়ানি দিয়ে বললো কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?
আমরা তো একটু আগেও ওর সাথে ফোনে কথা বললাম।
আকাশ বললো থাম আবার কল দেই। কল দেয়া হচ্ছে?
শ্রাবন বললো ধরলো রে?
আকাশ শুকনো মুখ নিয়ে বললো
"নাহ! বন্ধ বলছে!"
একে একে তিনজনই বার বার কল দেয়ার চেষ্টা করল।
কিন্তু লাভ হল না।
শ্রাবন ফেসবুকে ঢুকলো ম্যাসেজ দিবে বলে কিন্তু সে অমিতের আইডিতে ঢুকতেই তার মাথা ঘুরে গেল।
অমিতের আইডি টা Remembering হয়ে আছে, অথচ কিছুক্ষণ আগেও তো আইডি ঠিক ছিল।
বাজারে দুই-একজনকে তারা অমিতের দেয়া ঠিকানা টা জিজ্ঞেস করলো। সবাই এক কথায় বললো, এখন সেখানে কেউ থাকেনা। এক্সিডেন্টে ওই বাসার সবাই মারা গেছে। বাসার বড় ছেলেটা বেঁচে আছে তবে সে পাগল হয়ে গেছে, পাগলাগারদে আছে।
শ্রাবণ, রজত ও আকাশ সবাই কেমন যেন হতবাক। গত কিছুদিন ধরে তাহলে তারা কার সাথে যোগাযোগ করছিল।
শ্রাবন বললো ধরলো রে?
আকাশ শুকনো মুখ নিয়ে বললো
"নাহ! বন্ধ বলছে!"
একে একে তিনজনই বার বার কল দেয়ার চেষ্টা করল।
কিন্তু লাভ হল না।
শ্রাবন ফেসবুকে ঢুকলো ম্যাসেজ দিবে বলে কিন্তু সে অমিতের আইডিতে ঢুকতেই তার মাথা ঘুরে গেল।
অমিতের আইডি টা Remembering হয়ে আছে, অথচ কিছুক্ষণ আগেও তো আইডি ঠিক ছিল।
বাজারে দুই-একজনকে তারা অমিতের দেয়া ঠিকানা টা জিজ্ঞেস করলো। সবাই এক কথায় বললো, এখন সেখানে কেউ থাকেনা। এক্সিডেন্টে ওই বাসার সবাই মারা গেছে। বাসার বড় ছেলেটা বেঁচে আছে তবে সে পাগল হয়ে গেছে, পাগলাগারদে আছে।
শ্রাবণ, রজত ও আকাশ সবাই কেমন যেন হতবাক। গত কিছুদিন ধরে তাহলে তারা কার সাথে যোগাযোগ করছিল।
তাদের মাথায় অনেক প্রশ্ন?
কিন্তু উত্তর! উত্তর নেই।
রজত বললো আমরা হয়তো স্বপ্ন দেখছি। আমাকে চিমটি কাট।
আকাশ রজতকে চিমটি কাটলো কিন্তু লাভ হলো না।
তিনজনেরই মুখটা কেমন জানি মলিন হয়ে গেছে।
ভয়ে সবাই ফ্যাকাসে।
হঠাৎই শ্রাবনের ফোনটা বেজে উঠল।
শ্রাবন দেখল অমিত কল দিচ্ছে।
ভয়ে তার ঘাম ছুটতে লাগলো। এখন আর সে আগের মতো নির্দ্বিধায় ফোনটা রিসিভ করতে পারছে না, তার হাত কাঁপছে।
সে বললো আকাশ রজত দেখ! অমিত কল দিচ্ছে।
আকাশ ও রজত কিছু বলছে না দেখে,
শ্রাবন ফোনের ডিসপ্লে থেকে চোখ সরিয়ে তাদের দিকে তাকায় কিন্তু কোথায় আকাশ! কোথায় রজত! কেউ নেই তার পাশে। সে একা একটি অচেনা জাইগায় দাঁড়িয়ে। সে ভাবতে থাকে কোথায় গেল বাজার? কোথায় গেল বাজার ভর্তি লোক? কোথায় গেল তার বন্ধু? কি হচ্ছে এসব তার সাথে, কি করে সে এই অচেনা জায়গাটায় আসল?
তার ভয়ে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
অমিত আবার ফোন দিচ্ছে। শ্রবণ ভয়ে কাঁদছে কিন্তু ফোন টা ধরতে সাহশ পাচ্ছে না।
শ্রাবন বুঝতে পারছে সে একটা মস্ত বিপদে পরেছে। হয়তো আজ সে মারা যাবে। সে চিৎকার করছে আল্লাহ বাঁচাও আমাকে বাঁচাও! মা! বাঁচাও আমাকে বাঁচাও! তার শরীর ঘামছে।
কিন্তু উত্তর! উত্তর নেই।
রজত বললো আমরা হয়তো স্বপ্ন দেখছি। আমাকে চিমটি কাট।
আকাশ রজতকে চিমটি কাটলো কিন্তু লাভ হলো না।
তিনজনেরই মুখটা কেমন জানি মলিন হয়ে গেছে।
ভয়ে সবাই ফ্যাকাসে।
হঠাৎই শ্রাবনের ফোনটা বেজে উঠল।
শ্রাবন দেখল অমিত কল দিচ্ছে।
ভয়ে তার ঘাম ছুটতে লাগলো। এখন আর সে আগের মতো নির্দ্বিধায় ফোনটা রিসিভ করতে পারছে না, তার হাত কাঁপছে।
সে বললো আকাশ রজত দেখ! অমিত কল দিচ্ছে।
আকাশ ও রজত কিছু বলছে না দেখে,
শ্রাবন ফোনের ডিসপ্লে থেকে চোখ সরিয়ে তাদের দিকে তাকায় কিন্তু কোথায় আকাশ! কোথায় রজত! কেউ নেই তার পাশে। সে একা একটি অচেনা জাইগায় দাঁড়িয়ে। সে ভাবতে থাকে কোথায় গেল বাজার? কোথায় গেল বাজার ভর্তি লোক? কোথায় গেল তার বন্ধু? কি হচ্ছে এসব তার সাথে, কি করে সে এই অচেনা জায়গাটায় আসল?
তার ভয়ে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
অমিত আবার ফোন দিচ্ছে। শ্রবণ ভয়ে কাঁদছে কিন্তু ফোন টা ধরতে সাহশ পাচ্ছে না।
শ্রাবন বুঝতে পারছে সে একটা মস্ত বিপদে পরেছে। হয়তো আজ সে মারা যাবে। সে চিৎকার করছে আল্লাহ বাঁচাও আমাকে বাঁচাও! মা! বাঁচাও আমাকে বাঁচাও! তার শরীর ঘামছে।
হঠাৎ কোথ থেকে যেন শ্রাবনের মুখে গ্লাস খানেক পানি পরলো চোখ খুলে দেখলো তার মা সামনে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রাবন বলল মা জানো খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। মা বললেন হতছাড়া! কপালপোড়া! আল্লাহ খোদার নাম নাই খালি ঘুম আর ঘুম।
শ্রাবনের আরেকটা দিন শুরু হলো।
শ্রাবনের আরেকটা দিন শুরু হলো।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
English Translate
Shraban Bhromon
Ariaan Ahmed
Shravan wakes up to the phone ringtone. After finishing his talk with annoyance, he left the house with a twinkle in his eye. Go ahead and take the brick cement road. The purpose is to summon Rajat and Akash. The responsibility of calling them this morning, they gave to Shravan yesterday.
Shravan goes to Rajat's window and calls.
-Rajat! Rajat! Obeh Rajat!
The answer comes in a hard voice, who calls Rajat in the morning?
Shravan realizes this is Rajat's father's throat.
He immediately ran away. One ran and stopped under Akash house. Akash's house is five houses After Rajat's house. Two storey house.
Shravan saw Akash standing under his House.
Akash asks, Why are you running?
I went to call Rajat as Shravan and by mistake I woke up his father.
Akash laughed and said you are impossible.
- You could have called Rajat.
- There is no money on the phone.
-Okay.
Akash calls Rajat.
Where are you Come down to my house, I'm standing.
Rajat comes out brushing his teeth.
Then he says to Shravan
- Abeh! I told you to call me; And you're waking up Dad.
Shravan looks like a fool.
In fact, he did not do it on purpose.
Did Amit call Akash?
Shravan said he called me and asked when we would get on the bus.
I said I don't know.
He told me to talk to You Guys. They are not picking up the phone, I think they are asleep.
Akash calls Amit.
Amit said on the phone, got woke up?
Akash said, Hmm! I just woke up.
Amit said I called Shravan. When will you get on the bus?
Akash said I will leave by bus at 8:30. I know where to go?
Amit said Mokamtala. Then from there take CNG to Jumarbari.
Akash finished talking to Amit and said now at 7:25 you are ready to leave.
Shravan, Rajat and Akash's relationship with Amit are childhood friends. Amit, of course, is no longer here. He lives in Jumarbari with he's family. Amit's father used to work in a government job, so Amit's family had to go to Jumarbari. Amit's father has been gone for two years. Amit is there now. Amit's grandfather houses are also there. Amit is two brothers and two sisters. Amit is the youngest of them all.
Shravan, Rajat and Akash got ready and went out at 8:10.
8:30 bus. If you miss the bus, you will have to wait another hour. Akash's father came with them to pick them up on the bus. They cut the ticket and left the bus as soon as they got on the bus.
The three friends had never been together before. Shravan's SSC exam ended 17 days ago. Rajat and Akash are inter first year students. Rajat and Akash are sitting side by side. Akash is sitting by the window.
Shravan is sitting in the seat behind them, also by the window. Buses are running on the paved road. It is going on.
About two hours later, the bus stopped, and the helper said that it's Mokamtala. The three went down. Rajat landed a little too fast. As soon as he got down, he looked around and stood behind a broken shop. To urinate. He told the helper three or four times on the road to stop the bus, but it was not possible to stop the bus. Shravan and Akash laughed when they saw this. Shravan smiled and said this time I understood why Rajat was repeatedly asking when the bus would stop. Then Akash and Shravan laughed louder.
Shravan's phone rang.
Amit on the phone.
Asked, how far are you?
Shravan said I just got off.
Amit said this time he will charge 150 Taka for a CNG. I will go down to Jumarbari market. Only then.
Shravan said okay.
It has been 20 minutes but no CNG is available.
Why CNG, no car is available.
The two cars that are going to be found are again
I don't know why he doesn't want to go when he hears the name of the place.
Rajat said it seems that the car will not be available today. Not good!
Akash called Amit with annoyance and said, What can we do if the car is not available?
Amit says wait a minute, I'll get it. It is a little difficult to get a car to Jumarbari.
Everyone waited anxiously.
After waiting for another 35 minutes, a CNG was found but the fare was doubled to Tk 300. All three agree.
After getting in the car and going some way, Rajat said, well! Who told Amit that we got the car?
Akash said yes I have sent an SMS.
CNG is running.
Smooth roads paved with pitch.
Such a road that it is difficult, almost impossible to ride another CNG with one CNG.
Among them, the CNG driver is driving the CNG at a speed of 50 km per hour.
Everyone's face is dry with fear. Akash once said, Mama! We are in no hurry to move slowly. Rajat and Shravan said yes.
The CNG driver laughed a little and said don't be afraid mama.
I am a seasoned driver who has been driving CNG for 7 years, no accident has happened till now.
After a while.
Shravan very politely asked the CNG driver what is your name?
My name is Jabbar Uddin Bhuiyan. Everyone cuddles and calls Jabu Boila.
Akash said if we call you Jabu Mama is there any problem?
Jabu said there is no problem. Jabu Mama asked, "What are you going to Jumarbari for?"
Rajat said we are going to our friend's house.
Childhood friend See you today after many days.
Jabu mama asked after many days can?
In fact, sometimes we did not communicate.
We were all young then,
When they move here. Then there was no more communication.
Jabu Mama said without finishing Rajat, there was no communication!
So how did you find him after so many days?
Rajat showed Shravan and smiled a little and said that this is our intellectual. A few days ago, he called me and told me that I had talked to Amit. I am happy. I asked where did I get Amit?
This time Shravan stopped Rajat and said stop! I tell Mama about the incident.
Then Shravan began to speak
In fact, 15 days ago when I was looking at my news feed on Facebook,
Then in a corner of a news picture of an accident on a news portal, I see a picture of Amit.
Jabu Mama asked with interest and said the matter openly. I don't really understand.
Shravan said he was standing in one of the corners of the crowd of people who had come to see the four bodies lying on the ground in the picture of the accident. His look has changed a bit, that's what my childhood friend. I will not be wrong to recognize him. Yet there was a little doubt in my mind.
Jabu Mama asked then?
I do a Google search by entering the name of the news portal. From there I call with phone number. Then I found out that this is a news portal of Mokamatla.
I did a search on Facebook by typing Amit's name and gave the location to Mokamatla. A total of 842 people named Amit Hasan came to Mokamatla. I check 709 IDs in 3 days. I get ID number 813 on day 4. Her profile picture was taken with her father when she was in class three. I confirmed it after seeing the picture. This is our Amit. Then I got Ed, talking, took the address, took the number. This is it!
Isn't it funny, mama?
Jabu said hmm really funny. Life has become easier just as the phone rang on Facebook. Everyone laughed a little.
Akash says mama what is it sewn on the finger of your hand? Accident?
Jabu Mama said I have never had an accident. However ...
Everyone wants to know with interest, but what?
Jabu Mama paused for a moment and said hesitantly, but ..
Once I was hit by a truck.
Rajat eyes widened and said nothing happened?
Jabu Mama did not say, Allah saved me.
I didn't have much to do. I broke two bones in my chest and my left leg.
However, there were five passengers in the car and four of them died.
He said with a small smile on his face
What else is this!
Akash peeked out and saw Jabu Mama's left leg cut in half. Everyone's mind was filled with regret for Jabu Mama.
Shravan asked if you have more accidents here?
Suddenly Rajat said what he thought
Well! Mama do you have any pictures of those who died?
Jabu mama said hmm! Yes, but now I'm driving and I like you more than that, so if you don't mind, add me on Facebook and give me Messenger. The name of the ID is Jabbar Uddin Bhuiyan. Shravan.
Rajat asked with great curiosity how the accident happened.
Jabu Mama said I was intoxicated and the truck rushed to the front. I could not stop.
Everyone went silent. Maybe in anger or in hatred.
No one else spoke.
Sometimes people go silent. Now maybe that's the situation.
It took about 25 minutes by CNG to reach Jumarbari market.
Everyone got off the CNG.
Rented CNG and left.
Everyone's eyes were looking for Amit from side to side.
At that moment, Shravan took out the phone and while checking the message on Facebook, suddenly said "It's impossible".
Akash said why did it turn pale?
Shravan did not say anything.
Akash said with the phone let's see what happened.
When he saw Rajat also came, they also became pale.
Jabbar Uddin Bhuiyan sent a picture of the accident on Messenger.
In that accident he lost his own leg and caused the deaths of four people.
The four people who died in the accident in the film are Amit's family.
The bodies in the picture are Amit's two sisters, Amit's mother and Amit.
This is Amit who saw Amit in the picture of Shravan News Portal.
Rajat said with a sore throat but how is it possible?
We talked to him on the phone a little earlier.
Akash said stop and call again. Calling?
Shravan said caught?
Akash said with a dry face
"Nah! Saying off!"
All three tried to call each other again and again.
But the profit was not.
Shravan entered Facebook saying he would give a message but as soon as he entered Amit's ID, his head turned.
Amit's ID has been remembered, but a while ago the ID was right.
They asked one or two people in the market for the address given by Amit. Everyone said in one word, no one is there now. Everyone in the house died in the accident. The eldest son of the house is alive but he has gone mad, he is in the insane asylum.
Shravan, Rajat and Akash are all shocked. For the last few days then who were they contacting.
Many questions in their heads?
But the answer! No answer.
Rajat said we may be dreaming. Cut me off.
Akash pinched Rajat but to no avail.
I know how the faces of all three have become dirty.
Everyone is pale with fear.
Suddenly Shravan's phone rang.
Shravan saw Amit calling.
She started sweating in fear. Now he can't receive the phone as easily as before, his hand is shaking.
He said look at the Rajat Akash! Amit is calling.
Seeing Akash and Rajat saying nothing,
Shravan looks away from the display of the phone and looks at them but where is Akash! Where is the Rajat! There is no one beside him. He stood alone in an unfamiliar place. He wonders where the market went? Where did the people go to the market? Where did his friend go? What's going on with him, how did he get to this unfamiliar place?
Fearing to catch his breath.
Amit is calling again. She is crying for fear of hearing but does not dare to pick up the phone.
Shravan realizes that he is in great danger. Maybe he will die today. He is shouting God save me save me! Mom! Save me, save me! Her body is sweating.
Suddenly a glass of water fell on Shravan's face and he saw his mother standing in front of him. Shravan said mother you know I was having a very bad dream. Mother said without hesitation! Forehead! There is no name of Allah, just sleep and sleep.
Another day of Shravan began.


0 মন্তব্যসমূহ